খুলনা, বাংলাদেশ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে: খলিলুর রহমান
  বাংলাদেশের মতো এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, সাংবাদিকসহ আহত ৪০

গেজেট ডেস্ক

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষে লাবলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংর্ঘষের পর থেকে বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা ইসতিয়াক বাবুর কাছ থেকে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়েছিলেন জাহিদুল নামের এক ব্যক্তি। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ না হলেও অজ্ঞাত কারণে দোকানঘরটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি দোকানঘর ছেড়ে না দেয়ায় মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন আগে ভাঙচুর করে তাকে বের করে দেয়। এ নিয়ে শনিবার সকালে জাহিদুল তার ভাড়া নেয়া দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দোকান মালিকপক্ষ ইসতিয়াক বাবরের পক্ষে সাবেক এমপি, জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন করিব মানিকের প্রায় দুই শতাধিক লোকজন এসে মানববন্ধনের ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচার মাইক ভেঙে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়া জাহিদুল ইসলামের পক্ষে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোকজন এলে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় একঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে লাবলু মিয়া (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), মোন্নাফ মিয়া (৫৫), ময়নাল হোসেনকে (৩৬) উদ্ধার করে প্রথথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাবলু মিয়া মারা যান। নিহত লাবলু বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর রাজারামপুর এলাকার মহসিন আলীর ছেলে। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন বদরগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাব বারান্দায় অবস্থান নিলে সংঘর্ষকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে সাংবাদিক ফুয়াদ হাসান, নুরুন্নবী নুরু, সাইফুল ইসলাম মুকুল মারধরসহ তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্দার সেলিম মিয়া বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুরে লাবলু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি একেএম আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!